ডেক্স রিপোর্টঃ
এক সময়ের বিখ্যাত পাথর রাজ্য সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এখন এক ধুধু প্রান্তরে পরিণত হয়েছে। এক বছর আগেও যেখানে পাথরের স্তূপ ছিল, সেখানে এখন শুধু বালু আর গর্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত এক বছর ধরে প্রভাবশালী পাথরখেকোদের নির্বিচার লুটের কারণে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী ও পরিবেশকর্মীরা বলছেন, লুটেরাদের এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রশাসনের উদাসীনতা ও ঢিলেঢালা নজরদারি দায়ী। শত শত নৌকা দিয়ে দিনের পর দিন প্রকাশ্যে পাথর লুট হলেও বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ছিল নীরব দর্শক। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান হলেও আগেই খবর পেয়ে সরে পড়তো লুটেরারা।
এই লুটপাটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, বিএনপি, যুবদল, জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এই ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী বলেন, লুটপাটকারীদের কোনো দল নেই এবং এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, গত এক বছরে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় দুইশো কোটি টাকা। এর ফলে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এই স্থানটি তার আকর্ষণ হারিয়েছে। পর্যটকরা এখন এই স্থান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যা সরকারের রাজস্ব আয়েও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ অবশ্য জানিয়েছেন, সাদাপাথরে লুটপাট বন্ধে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে, পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাকি প্রাকৃতিক সম্পদও বিলীন হয়ে যাবে।








