হাইমচর (চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরের হাইমচরে ১ বছরে পানিতে ডুবে অন্তত ২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের ১ আগস্ট থেকে এ বছরের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব, শিশুদের সাঁতার না জানা, জলাশয় অরক্ষিত অবস্থায় থাকাসহ নানা কারণে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে অভিমত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পানিতে ডুবে নিহত শিশুদের বয়স দেড় বছর থেকে নয় বছরের মধ্যে। গত এক বছরে হাইমচরে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে । এ উপজেলায় মৃত্যু হয় ২৬ শিশুর। এর বাইরে গত ১ বছরে গাজীপুর ইউনিয়নে ৩, আলগী উওর ইউনিয়নে ৭, দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নে ৩, নীলকমল ইউনিয়নে ৩, চরভৈরবী ইউনিয়নে ৫ এবং এই উপজেলার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
এক জরিপে জানাযায়, জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় বাংলাদেশে। এমনকি রোগে ভুগে মৃত্যুর চেয়ে দেশটিতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হারই বেশি বলে মনে করেন গবেষকরা।
স্থানীয় সংবাদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর অধিকাংশ সময় সকাল ১০ টা থেকে ১টার মধ্যে। এবং যে শিশু মারা গেছে তাদের বসতির পাশেই পুকুর অথবা ডোবা রয়েছে। মূলত দেখ-ভাল করার অভাবেই এই মৃত্যু গুলো হয়েছে। যে সময়টা শিশু পানিতে পড়ছে ঐ সময়টায় মায়েরা ব্যস্ত থাকেন রান্না বান্নার কাজে, বাবারা কাজে ঘরের বাহিরে এবং বড় ভাই-বোন (যদি থাকে) তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকে।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে এম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর জন্য কয়েকটি রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বলেন- সবচেয়ে বিপজ্জনক পুকুর (৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা পুকুরেই হয়ে, যেটি একেবারেই বাড়ির পাশে থাকে)।
এছাড়া খাল, বিল, ডোবাতো আছেই। বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাঁতার না জানা। তাৎক্ষনিক প্রাথমিক চিকিৎসাজ্ঞান না থাকা। তারপরে, আধুনিক যুগে এসেও আমাদের সমাজে কিছু কুসংস্কার রয়ে গেছে।’ পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘৫ বছরের নীচের শিশুদের সঠিক তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। ৫ বছরের বেশি বয়সীদের সাঁতার শেখাতে হবে।’








