স্টাফ রির্পোটার:
সারা দেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে।
ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ঘাটতির কথা বললেও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, আমদানির অনুমতি না দেওয়ায় একটি সিন্ডিকেট চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। তবে তারা মনে করছেন, এটি সাময়িক। বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসছে এবং কৃষকের হাতে থাকা পুরোনো পেঁয়াজ বাজারে ছেড়ে দিলে দু-এক দিনের মধ্যেই বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
আমদানিকারকরা বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, কৃষকের স্বার্থের কথা বলে আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আমদানির অনুমতি দিলে দাম দ্রুত কমে ৪০-৫০ টাকায় নেমে আসবে। আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, “সিন্ডিকেটচক্রের সঙ্গে তাদের গোপন আঁতাত আছে। এ কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় পেঁয়াজ কিনে খেতে হচ্ছে।”
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, “আসলে বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। আমদানির অনুমতি দিতে সরকারকে বাধ্য করার জন্য সিন্ডিকেটচক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এখনো মার্কেট প্রসেস এবং কৃষকের হাতে এক লাখ টনেরও বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুত আছে।
গতকাল রাজধানীর নয়াবাজার, কেরানীগঞ্জের বৌবাজার, হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও যে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ টাকায় পাওয়া যেত, গতকাল তা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। পাইকারি বাজারেই ভালো মানের পেঁয়াজের পাল্লা (পাঁচ কেজি) এখন ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আবদুল কাদের জানান, পাইকারি বাজারেই দু’দিনের ব্যবধানে দাম ৩০ টাকা বেড়েছে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় দাম বেড়ে ৭০০ টাকা পাল্লা বিক্রি হয়েছে। অপর ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ অবস্থা বজায় থাকলে চলতি সপ্তাহেই পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরাও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই বলে জানিয়েছেন।
তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, পেঁয়াজের দাম ১৫০ টাকা অতিক্রম করলে সীমিত আকারে আমদানির সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া আছে।
পেঁয়াজের দাম লাগামহীন হলেও বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম খুব একটা কমেনি।
- সবজি: এখনো অধিকাংশ সবজির কেজি ৫০ টাকার বেশি। শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়, বরবটি ও বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। গত সপ্তাহের তুলনায় ফুল ও বাঁধাকপির দাম কিছুটা কমে প্রতিটি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
- কাঁচামরিচ: কাঁচামরিচের দাম অর্ধেকে নেমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
- আলু: নতুন আলুর দাম কিছুটা কমে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও পুরোনো আলুর দাম বেড়ে ২৫ থেকে ২৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
- ভোজ্যতেল: মিল মালিকরা সরকারকে না জানিয়েই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে আট টাকা বাড়িয়েছেন।
- ডিম ও মুরগি: ডিম ও মুরগির বাজার নিম্নমুখী। ফার্মের প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরো পড়ুন: https://banglaralo24tv.com/










