স্বাস্থ্য ডেক্স:
সুস্থ থাকতে মানতে হবে যা কিছু
বর্তমান বিশ্বের এক বিশাল অংশ এখন চোখের পাতায় ঘুম নিয়ে লড়াই করছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য—বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের ঘুমজনিত সমস্যায় ভুগছেন। অনিদ্রা কেবল ক্লান্তি নয়, বরং এটি ডায়াবেটিসসহ শরীরের নানা জটিল রোগের পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছে।
কেন ঘুম এত জরুরি?
চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের এই সময়টুকু শরীরের মেরামত এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য কাজ করে। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস বিভাগের অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর মতে, ঘুমের পরিবেশ হওয়া চাই শান্ত ও কোলাহলমুক্ত। তিনি শোয়ার ঘরে টেলিভিশন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সামগ্রী না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
ভালো ঘুমের জন্য করণীয় (Do’s)
একটি শান্তিপূর্ণ ও গভীর ঘুমের জন্য কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি:
- গরম পানিতে গোসল: ঘুমের আগে শরীর শিথিল করতে মৃদু গরম পানিতে গোসল বেশ কার্যকর।
- বই পড়া: কড়া আলো নিভিয়ে মৃদু আলোতে বই পড়ার অভ্যাস ঘুমের আমেজ তৈরি করে।
- সময়ানুবর্তিতা: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। চিকিৎসকদের মতে, রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বিছানায় যাওয়া সবচেয়ে ভালো।
- তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ঘুমের সময় শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়, তাই শোয়ার ঘরের পরিবেশ যেন ঠান্ডা থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
- ডিনার ও ডায়েট: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন এবং স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলুন।
- মেডিটেশন: অস্থিরতা কমাতে হালকা ব্যায়াম বা মেডিটেশন সহায়ক হতে পারে।
যা এড়িয়ে চলবেন (Don’ts)
সুস্থ ঘুমের জন্য কিছু বর্জনীয় অভ্যাসও রয়েছে:
- ক্যাফেইন বর্জন: বিকেল ৫টার পর কফি, চা বা চকোলেট জাতীয় খাবার পরিহার করুন। তবে এ ক্ষেত্রে এক গ্লাস দুধ সহায়ক হতে পারে।
- গ্যাজেট থেকে দূরে: ঘুমানোর আগে মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
- নেশা ও ওষুধ: ধূমপান ও মাদক থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই ঘুমের ওষুধ খাবেন না।
- চিন্তামুক্ত থাকা: বিছানায় যাওয়ার পর কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করবেন না। মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।
- দিনের ঘুম: দিনের বেলা না ঘুমানোই ভালো। তবে খুব বেশি ক্লান্ত লাগলে অল্প সময়ের জন্য (পাওয়ার ন্যাপ) বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে।
পরিশেষে: একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং ঘুমের পরিবেশের প্রতি সচেতনতাই পারে আপনাকে অনিদ্রার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে। মনে রাখবেন, আজকের ভালো ঘুমই আপনার আগামীকালের কর্মশক্তির উৎস।










