ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের আগে উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত মো: আবু বকর হাওলাদারকে (৪২) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী এবং মৃত মৌজে আলী হাওলাদারের ছেলে মো: আবু বকর হাওলাদার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ির পাশের জামে মসজিদে অবস্থান করছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মসজিদের বারান্দায় দুটি কিশোরের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে তিনি তা থামাতে যান।
এ সময় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একই বাড়ির মৃত এনছান হাওলাদারের ছেলে আবু ইউসুফ ওরফে সুজন এবং আহম্মদ হাওলাদারের ছেলে সুমনসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা আবু বকরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষরা বাড়ি থেকে রাম-দা নিয়ে এসে তাকে কুপিয়ে জখম করে। হামলায় আবু বকরের দাঁত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে উদ্ধার করে আমুয়াস্থ কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত আবু বকর হাওলাদার অভিযোগ করেন, পৈত্রিক জমিতে ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। তিনি বলেন, “আমি সামাজিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে থাকায় প্রতিপক্ষরা সহ্য করতে পারছিল না। আদালতের রায়ে আমি পৈত্রিক জমিতে পাকা ঘরের কাজ শেষ করি, যা তারা মেনে নিতে পারেনি। সেই প্রতিহিংসা থেকেই তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ইতোমধ্যে কাঁঠালিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে একজন স্বাস্থ্য সহকারীর ওপর এ ধরনের বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অতি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।














