Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

TnewsTnews
  • Home
  • সর্বশেষ
  • অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণার দায়ে ৪ সদস্য গ্রেফতার

অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণার দায়ে ৪ সদস্য গ্রেফতার

অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণার দায়ে ৪ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সোশ্যাল মিডিয়ায় কম দামে সুস্বাদু ইলিশ মাছ ও নানা আকর্ষণীয় পণ্য বিক্রির লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছিল একটি সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধী চক্র। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সেই চক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে মাঠে নামে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। অবশেষে নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে চক্রটির আরও চার সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরবেলায় পরিচালিত এই বিশেষ যৌথ অভিযানে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রতারণার মূল হাতিয়ার—১০টি মোবাইল ফোন, ২টি ভারতীয় সিমসহ মোট ৪৬টি সিম কার্ড এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ব্লু-প্রিন্ট। চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিভিন্ন লোভনীয় ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে সেগুলোকে কারসাজির মাধ্যমে এডিট করত। এরপর ভুয়া ফেসবুক পেজ এবং ফেক হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, জুতা, কলম, বেবি টয় থেকে শুরু করে অনলাইন জবের নামে চটকদার বিজ্ঞাপন তৈরি করত। শর্ট রিল ও ফেক কমেন্টসের মাধ্যমে সেই বিজ্ঞাপনগুলো চড়া বাজেটে বুস্ট করে ছড়িয়ে দেওয়া হতো সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের টাইমলাইনে।

ভুক্তভোগীদের ধোঁকা দিতে তারা ব্যবহার করত নিখুঁত সব চালবাজি। কেনাবেচার আলাপকালে অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো কিংবা সরাসরি অডিও কলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে জাহির করত। গ্রাহকদের মনে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে ব্যবহার করা হতো ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জাল ট্রেড লাইসেন্স, নকল ভাউচার এবং ঠিকানা। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরই লাপাত্তা হয়ে যেত তারা। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই সাধারণ মানুষের কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল এই চক্রটি।

এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি পৃথক মামলা (মামলা নং-১১১, তাং-২১/০৮/২০২৬ এবং মামলা নং-০৫, তাং-০১/০৯/২০২৬) রুজু করা হয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের গোপন আস্তানা শনাক্ত করে। এরপর এসআই মো. আনছার উল্লাহ, এসআই মো. জিয়াউল হক জিয়া, এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াছ এবং এএসআই মো. জহির উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত টিম নড়াইলের কালিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের পাকড়াও করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৭ সেপ্টেম্বর তাদের চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা ফুরকান ওরফে ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া ওরফে চান্দু শেখ (২৫), রাতুল হোসেন নবেল (২৫) এবং শহিদুল শেখ (২৩)।

এর আগে এই একই চক্রের আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ নিয়ে এই প্রতারক চক্রের মোট ৬ সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হলো। সাইবার দুনিয়ায় এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রতারণা রোধে চাঁদপুর জেলা পুলিশের এমন কঠোর ও অভিযানিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি বর্তমানে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তাধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts