ডেক্স রিপোর্টঃ
ঝালকাঠি জেলার ভীমরুলিতে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ভাসমান পেয়ারা হাট। শুকনো জায়গার বদলে খালের পানিতে নৌকায় করে পেয়ারা বেচাকেনা হয় এখানে। প্রতি বছর পেয়ারার মৌসুমে এই ভাসমান হাট দেখতে ভিড় করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পর্যটকরা।
এই হাট শুধু কেনাবেচার জন্য নয়, এটি পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় একটি ভ্রমণকেন্দ্র। বিশেষ করে ছোট নৌকা বা ট্রলারে করে সরু খালের পাশ দিয়ে পেয়ারা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ থাকে। খাল পাড়ের এই বাগানে পেয়ারার পাশাপাশি আমড়া, লেবু, কলাসহ বিভিন্ন ধরনের রবি শস্যও চাষ হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই নৌকা চালিয়ে বাগান থেকে পেয়ারা এনে হাটে বিক্রি করেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে পেয়ারা চাষ হচ্ছে। ঝালকাঠি জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্যের মধ্যে পেয়ারা অন্যতম। জেলা প্রশাসন পর্যটকদের সুবিধার জন্য এখানে ওয়াচ ব্লক, বসার জায়গা, গোসলের স্থান এবং ওয়াই-ফাই জোন তৈরি করেছে। তবে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ও খাবারের মান নিয়ে কিছু অভিযোগও রয়েছে।
ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার প্রায় ২০টিরও বেশি গ্রামে পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষ হয়। এই বছর ৬০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে, যেখানে হেক্টর প্রতি ফলন প্রায় ১০ হাজার কেজি। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস হলো পেয়ারার ভরা মৌসুম। তবে এ বছর চাষিরা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে পেয়ারা থেকে জ্যাম-জেলি তৈরির পরিকল্পনা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
এই অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ভীমরুলি ভাসমান পেয়ারা হাট দেশ-বিদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নজর কেড়েছে। এখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং সরকারি কর্মকর্তারাও এসেছেন।








