নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকার কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করে তাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, কৃষি ঋণ, সার, বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা বিতরণে এই কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট প্রাক্কলন নির্ধারণের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কৃষক কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের কৃষিখাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করবে। তিনি বলেন:
- সরাসরি সহায়তা: এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি বিভিন্ন আর্থিক ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন।
- সমন্বিত ডাটাবেজ: দেশের সকল কৃষক ও তাদের উৎপাদন কার্যক্রম একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের আওতায় আসবে।
- অপচয় রোধ: সঠিক তথ্য ও পরিকল্পনার ফলে ফসলের অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আগামী ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কর্মসূচির প্রধান দিকগুলো হলো: ১. কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন: ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের প্রোফাইল তৈরি। ২. খাল খনন: সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে প্রয়োজনীয় খাল খনন কার্যক্রম। ৩. বৃক্ষরোপণ: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও ফলদ সম্পদ বৃদ্ধিতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের ডাটা সংগ্রহ ও ব্যাংক হিসাব খোলার কাজ আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী পহেলা বৈশাখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করবেন।
কৃষি সচিব রফিকুল মোহামেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
আরো পড়ুন: https://banglaralo24tv.com/









