নিজস্ব প্রতিবেদক
আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। দীর্ঘ ৯৭ বছরের ঐতিহ্য মেনে এই গ্রামগুলোতে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষ আজ আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছেন।
সাদ্রা দরবার শরীফ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টায় দরবার শরীফ মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল-মাদানী।
এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা মাঠে আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফুল্লাহ চৌধুরী।
সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফুল্লাহ চৌধুরী জানান, ১৯২৮ সাল থেকে তাদের পূর্বপুরুষ মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের এই প্রথা চালু করেন। তিনি বলেন:
”শুরুতে লোকসমাগম কম থাকলেও বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় আমাদের অনুসারীরা একইভাবে ঈদ উদযাপন করছেন।”
এ বছর ঈদ উদযাপনের প্রেক্ষাপট নিয়ে মুসল্লি মোনায়েম হোসেন জানান, তারা নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘ যাচাই-বাছাই করেছেন। আফগানিস্তান বা মালির মতো কিছু স্থানে চাঁদ দেখার সংবাদ প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা তড়িঘড়ি করে রোজা ভাঙেননি। ৩০ রোজা পূর্ণ করে শুক্রবার নিশ্চিত হয়েই তারা ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ ঈদের আমেজ বিরাজ করছে। উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- হাজীগঞ্জ: সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপপুর, বাসারা।
- ফরিদগঞ্জ: লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা ও গোবিন্দপুর।
- মতলব ও কচুয়া: দশানি, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া উপজেলার বেশ কিছু আংশিক গ্রাম।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরই বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের একদিন আগে বা আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে এই গ্রামগুলোতে ঈদ উদযাপিত হয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘আগাম ঈদ’ হিসেবে পরিচিত।
আরো পড়ুন: https://banglaralo24tv.com/














