Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

TnewsTnews
  • Home
  • জাতীয়
  • ‘জাটকা রক্ষায় মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তা সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’

‘জাটকা রক্ষায় মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তা সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

​ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এবং জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় জাটকা নিধন সম্পূর্ণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, “একটি ডিমভর্তি ইলিশ ধরা মানে হাজার হাজার মাছ ধ্বংস করা। তাই শুধু আইন দিয়ে নয়, মৎস্যজীবী থেকে ভোক্তা—সবাইকে জাটকা সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে।”

​আজ দুপুরে চাঁদপুর সদরের মোলহেডে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ইলিশের সোনালী ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, এক সময় দেশে প্রায় ২০ লক্ষ টন ইলিশ উৎপাদিত হলেও জাটকা নিধনের ফলে তা কমে মাত্র দুই লক্ষ টনে নেমে এসেছিল। তবে বর্তমানে সরকারের নানা পদক্ষেপের ফলে উৎপাদন আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন:

​“যদি জাটকা নিধন শতভাগ বন্ধ করা যায়, তবে দেশে ইলিশের উৎপাদন পুনরায় ২০ লক্ষ টনে উন্নীত করা সম্ভব।”

​মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৮-৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ইলিশকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এবং ২০০৩-০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইলিশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চাঁদপুর অঞ্চল দেশের মোট ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে, তবে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও চরাঞ্চল ব্যবস্থাপনা উন্নত করলে এই উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

​জেলেদের দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার বর্তমানে জেলেদের জন্য চাল ও তেলসহ প্রায় ৬৫০০ টাকা সমমূল্যের মানবিক সহায়তা প্রদান করছে। তিনি জেলেদের উদ্দেশ্য করে বলেন:

  • ​অন্তত দুই মাস জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকুন।
  • ​ছোট ইলিশ বড় হওয়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে তা অধিক ওজনে ও দামে বিক্রি করা যাবে।
  • ​“ইলিশ মানেই বাংলাদেশ”—এই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সুনাম ধরে রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

​মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: জিয়া হায়দার চৌধুরী।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম। অনুষ্ঠানে নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ এবং স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts