নিজস্ব প্রতিবেদক:
জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা এখন সরকারের হাতেই থাকল। সোমবার এ বিষয়ে বহুল আলোচিত একটি রিটের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়।
২০১৮ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা একটি সার্কুলারের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে করা রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে এই রায় আসে। ওই সার্কুলারে ১১৪৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে ন্যস্ত করে মাত্র ১১৭টি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হয়েছিল।
‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ নামের একটি মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন জনস্বার্থে ২০১৮ সালে এই সার্কুলারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। রিটকারী আইনজীবীরা শুনানিতে যুক্তি দেন, ওষুধ মানুষের জীবনধারণ ও রোগ থেকে বাঁচার অন্যতম মাধ্যম। এটি সরাসরি নাগরিকদের বেঁচে থাকার অধিকারের (Right to Life) সঙ্গে সম্পর্কিত। এমতাবস্থায়, ওষুধের মূল্য নির্ধারণে সরকারের ক্ষমতা সীমিত করার সিদ্ধান্ত জনগণের বেঁচে থাকার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে।
উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে, বিচারপতি রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চলতি বছরের ২৫ আগস্ট এক সংক্ষিপ্ত রায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ সালের সার্কুলারটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে, জনস্বাস্থ্য ও জনগণের স্বার্থে জীবন রক্ষাকারী সব ওষুধের মূল্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারণ করে অবিলম্বে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হলো।
এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবীরা বলেন, এটি জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী রায়। জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নিয়ে যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা বাণিজ্য হতে না পারে, তার পথ বন্ধ হলো এই রায়ের মাধ্যমে। এখন সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দ্রুত মূল্য নিয়ন্ত্রণ করবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এর অধীনে সরকার ১৯৯৩ সালে মোট ৭৩৯টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। তবে, এর ক্ষমতা সীমিত করে ১৯৯৪ সালে একটি আদেশের মাধ্যমে মাত্র ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রেখে বাকি সব ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ভার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ন্যস্ত করা হয়েছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত হচ্ছিল। হাইকোর্টের এই রায় সরকারের সেই ক্ষমতাকে পূর্ণাঙ্গ রূপে ফিরিয়ে আনল।
আরো পড়ুন: https://banglaralo24tv.com/










