স্টাফ রির্পোটার:
ইসলামী সমমনা ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে নেতারা বাংলাদেশে ইসলামের আইন ও শাসন প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবর রহমান স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন, ইসলাম ক্ষমতায় গেলে “বাংলাদেশে মানুষের লেখা কোনো সংবিধান চলবে না,” বরং তাঁরা “মানবরচিত আইনের সংবিধান দেখতে চান না” এবং “মদিনার ইসলাম কায়েম” করতে চান।
বরিশালের বেলস্ পার্ক ময়দানে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ ৫ দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবর রহমান বলেন, “আমরা মানবরচিত আইনের সংবিধান দেখতে চাই না। মদিনার ইসলাম কায়েম করতে চাই। সংস্কারের মাধ্যমে আমরা সংবিধান থেকে ইসলামবিরোধী ধারা বাতিল করতে চাই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “৫৪ বছরে বাংলাদেশের সংসদে কুরআনের কোনো আইন পাস হয়নি। ইসলাম ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে মানুষের লেখা কোনো সংবিধান চলবে না।”
তিনি চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিমের প্রশংসা করে বলেন, “আজকে চরমোনাই পীর সাহেবের পাশে বসে মনে হলো তিনি শুধু পীর নন, তিনি এদেশের ইসলাম প্রতিষ্ঠার একজন মহাবীর।” ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ৮ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চরমোনাই পীর বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “আপনারা যদি জনগণের মনের অবস্থা না বুঝেন, নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা করেন, তাহলে শেখ হাসিনার মতো আপনাদেরকেও মানুষ বাংলার জমিন থেকে উৎখাত করে ছাড়বে।” তিনি আরও বলেন, “৫৩ বছরে মানুষ শান্তিতে ছিলো না, এক বারের জন্য হলেও মানষ এখন ইসলামের শাসন দেখতে চায়।”
ইসলামী শাসনের সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামের পক্ষে রায় হলে “কোনো মায়ের কোল খালি হবে না, দেশে কোনো চাঁদাবাজি, গুণ্ডামি থাকবে না, দুর্নীতি থাকবে না।” তিনি আজকের বিশাল জনসমাগমকে ইসলামের পক্ষে মানুষের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আশ্বাস দিয়ে বলেন, “ইসলামী হুকুমত হলে এদেশে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই স্বাধীনভাবে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধর্মীয় আচার পালন করবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি খেয়ে থাকি তবে একসাথে খাবো, না খেয়ে থাকলে সবাই একসাথে না খেয়ে থাকবো।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহকারী মহাসচিব মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসির আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ইসলামী সমমনা ৮ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ইসলামী সমমনা ৮ দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বরিশাল জেলাসহ বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে বেলস্ পার্ক ময়দান। সমাবেশে আগতরা আশা প্রকাশ করেন যে এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস বাংলাদেশে “নতুন দিনের সূচনায় ভূমিকা রাখবে।”
আরো পড়ুন: https://banglaralo24tv.com/
















