স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তাদের তিন দফা দাবি আদায়ে চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করেছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দিনগত রাত পৌনে ১২টায় ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ আহ্বায়ক শাহীনুর আল আমিন কর্মসূচি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, “কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
পরে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এবং ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ১৬ জন আহ্বায়কের যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতের ঘোষণা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষকদের ন্যায্য তিন দফা দাবি আদায়ে চলমান কর্মসূচি স্থগিত করা হলো। আগামী রোববার থেকে সব শ্রেণির তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক পরীক্ষা) চলবে। উভয় পরিষদের আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিগুলো হলো:
- সহকারী শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলে আপাতত ১১তম গ্রেড প্রদান করা (বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে আছেন)।
- চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতার নিরসন।
- সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি দেওয়া।
গত ২৭ নভেম্বর তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’। গত সোমবার তারা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন এবং বুধবার থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করে। প্রায় একই দাবিতে ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ও ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর কর্মবিরতি পালন করেছিল এবং বৃহস্পতিবার থেকে ‘তালাবদ্ধ’ কর্মসূচি শুরু করে।
দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। আন্দোলনের কারণে গত চার দিন ধরে দেশের অনেক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। শিক্ষকেরা ফটকে তালা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিছু স্থানে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তালা ভেঙে এবং পুলিশ-আনসারের পাহারায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও মূল্যায়ন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এমতাবস্থায়, আন্দোলন দমাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নেয় এবং শিক্ষক নেতাসহ বেশ কিছুসংখ্যক শিক্ষককে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বদলি করা হয়। এর পরই শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেন।
আরো পড়ুন: https://banglaralo24tv.com/











