Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

TnewsTnews
  • Home
  • জাতীয়
  • শত কোটি টাকার আর্থিক বিপর্যয়ে অনিশ্চয়তায় হাজারো যাত্রী; সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি

শত কোটি টাকার আর্থিক বিপর্যয়ে অনিশ্চয়তায় হাজারো যাত্রী; সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA) সেক্টরে চলমান এক ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয়ের জের ধরে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ট্রাভেল বিজনেস পোর্টাল (TBP)-এর অসংখ্য ভুক্তভোগী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। TBP (যা মূলত AOTREK TOURISM LTD দ্বারা পরিচালিত) সহ অন্যান্য পলাতক সংস্থার কাছে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করেও এখন নিশ্চিত টিকিট বাতিলের আশঙ্কায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বিদেশে কাজ, শিক্ষা বা চিকিৎসার জন্য ইস্যু করা তাদের টিকিটগুলো কোনোভাবেই বাতিল না হয়।

এই সংকটের মূলে রয়েছে B2B (ব্যবসা থেকে ব্যবসা) ক্রেডিট চেইনে সৃষ্টি হওয়া এক ভয়ংকর ফাটল। ভুক্তভোগীরা TBP-কে তাদের টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করলেও, টিকিটগুলো ইস্যু করা হয়েছিল হাজী এয়ার, টেকঅফ, স্বপ্ন ট্যুর এন্ড ট্রাভেল সহ দেশের বড় সরবরাহকারী এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে। অভিযোগ উঠেছে, TBP গ্রাহকের টাকা পেলেও সরবরাহকারী এই বড় এজেন্সিগুলোকে তাদের পাওনা পরিশোধ করেনি।

ফলে, নিজেদের আর্থিক ক্ষতি পোষাতে হাজী এয়ার, টেকঅফ এবং স্বপ্ন ট্যুর এন্ড ট্রাভেল এখন সরাসরি ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছে পুনরায় টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য দাবি করছে, অন্যথায় অবিলম্বে টিকিট বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ভুক্তভোগী মহল তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করে বলছে, এই পুরো কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরবরাহকারী এই বৃহৎ এজেন্সিগুলোর যোগসাজশ থাকতে পারে। তারা অবিলম্বে এই জালিয়াতির তদন্ত দাবি করেছেন।

TBP-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর এই আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পে এক গভীর আস্থার সংকট সৃষ্টি করেছে। এই জালিয়াতির মূল হোতাদের তালিকায় রয়েছে পূর্ববর্তী বড় সংস্থা ফ্লাইট এক্সপার্ট এবং ফ্লাইফার, যারা গ্রাহক ও ছোট এজেন্সিগুলোর শত শত কোটি টাকা নিয়ে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ফ্লাইট এক্সপার্টের সিইও ও ম্যানেজিং পার্টনার সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম গত ২ আগস্ট অফিস বন্ধ করে দেশ থেকে পালিয়ে যান।

ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ATAB) এই ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সরকারকে সতর্ক করেছে যে অতীতেও Haltrip, 24ticket.com, এবং Let’s Fly-এর মতো সংস্থার মাধ্যমে একই ধরনের প্রতারণা ঘটেছে।

ATAB আরও উল্লেখ করেছে যে, ফ্লাইট এক্সপার্টের মাত্র ৫০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শত কোটি টাকার দায় সৃষ্টি হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, সরকারের দুর্বল তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণের অভাবে গ্রাহকের অর্থ সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এই প্রেক্ষাপটে, বিক্ষোভরত ভুক্তভোগী ও ATAB সম্মিলিতভাবে সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে গ্রাহকের অর্থ সুরক্ষার জন্য এসক্রো (Escrow) ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশিকা (OTA Guideline) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। এই নজিরবিহীন আর্থিক বিপর্যয় এখন পর্যটন শিল্পের বিশ্বাসযোগ্যতাকে গভীর সংকটে ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts