বিশেষ প্রতিনিধি:
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন জোহরান মামদানি। দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিকের অভূতপূর্ব সাফল্য কেবল শহরটির ৮৪ লাখেরও বেশি জনসংখ্যার জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের নজর কেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে।
৩৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন। নিউইয়র্কের মেয়র পদে আসীন হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি একাধিক ক্ষেত্রে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাস গড়লেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনিই নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম ব্যক্তি যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে তার ব্রুকলিন প্যারামাউন্ট থিয়েটারে বিজয় অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও, সোমবারই তিনি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,
“আপনাদের কারণেই আজ এই শহরে ইতিহাস রচিত হলো।”
📈 বাস্তব ইস্যুর জয়, নাকি নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি?
বহুজাতি ও বহুধর্মীয় এই শহরের ভোটাররা মামদানির জয়কে অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তবে তার সমর্থকরা জোর দিয়ে বলছেন, এই জয় কেবল ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের নয়। বরং, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তিনি যেভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করে প্রচারণা চালিয়েছেন, এটি তারই প্রতিফলন।
ব্রঙ্কসের মোট হেভেন এলাকার সমাজকর্মী জোশুয়া উইলসন (৩৩) মামদানিকে ভোট দিয়েছেন। তার ভাষায়,
“ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পুরো আমেরিকা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত। এমন সময়ে নতুন ও তরুণ কণ্ঠের উত্থান জরুরি।”
৬৮ বছর বয়সী লুসি কর্দেরো বলেন, “মামদানি নতুন, তরুণ, হয়তো তিনিই কিছু পরিবর্তন আনতে পারবেন।”
⚔️ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘গৃহযুদ্ধ’ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
এই নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হিসেবেও দেখছে আল জাজিরা। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো ছিলেন ধনী দাতাদের প্রভাবিত ‘পুরোনো ধারার’ প্রতিনিধি। অন্যদিকে, নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়া মামদানি প্রতিনিধিত্ব করেছেন নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির।
ভোট দিতে গিয়ে সাবেক গভর্নর কুয়োমো এই নির্বাচনকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে এক ধরনের ‘গৃহযুদ্ধ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন,
“সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বাধীন চরম বামপন্থিরা এখন মধ্যপন্থিদের চ্যালেঞ্জ করছে।”
ব্রুকলিনের ক্রাউন হাইটসের ফ্রিল্যান্সার মেগান মার্কস (৫২) মনে করেন, “মামদানির অবস্থান আমার চেয়েও বেশি বামঘেঁষা, কিন্তু দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার মতো দৃষ্টিভঙ্গির একজন নেতার প্রয়োজন। আমি তাকে সমর্থন করেছি, কারণ আমাদের হারানোর কিছু নেই।”
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের ভোটগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে সমর্থন ঘোষণা দিয়েছিলেন। রক্ষণশীল ভোটারদের একত্রিত করার উদ্দেশ্যে এই ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তা উল্টো ফল দিয়েছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড্রাইভার ইফতেখার খান বলেন, “এই নির্বাচনে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় ভোটারদের ঐক্যই মামদানির বড় শক্তি। ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর যেভাবে মুসলিমরা বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন, সেই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তার জয় আমাদের জন্য এক নতুন সূচনা।”
আরো পড়ুন: https://banglaralo24tv.com/










