স্টাফ রিপোর্টার:
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও চাঁদপুর পৌর এলাকার প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে ভুগছেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ তাঁদের ময়লাযুক্ত, ঘোলা এবং দুর্গন্ধময় পানি সরবরাহ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ—সকলেই অপরিষ্কার পানি পানে বাধ্য হচ্ছেন। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন তাঁরা।
পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ মো. জাহাঙ্গীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখনো তৃতীয় শ্রেণির সেবা দেওয়া হচ্ছে।”
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শহরের নতুন বাজার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ডাকাতিয়া নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে যে পানি শোধনাগারে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেখানে পাশের নালা থেকেও দূষিত পানি প্রবেশ করছে।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ অভিযোগ করেন, শোধনাগারগুলোতে ডাকাতিয়া নদী থেকে পানি তুলে কোনো প্রকার বিশুদ্ধকরণ ছাড়াই সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া, অনেক জায়গায় পানির লাইনের সঙ্গে ড্রেনের লাইন লিকেজ হয়ে মিশে যাচ্ছে।
নোংরা পানি পানের কারণে অনেকে নানা ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তালতলা এলাকার গৃহিণী নাসিমা আক্তার জানান, “এই সমস্যা অনেক দিনের। আমরা প্রায়ই ফিটকিরি দিয়ে পানি পান করি।”
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ কে এম মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন, পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত প্রতিদিন অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন। গুরুতর রোগীরা মতলব আইসিডিডিআরবিতে চলে যান। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না করা হলে পৌরবাসী চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন।
পৌরসভার ৪টি শোধনাগারের মধ্যে বর্তমানে ৩টি সচল আছে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার প্রশাসক মো. গোলাম জাকারিয়া। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন বাজার, পুরান বাজারে ৩টি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং বিপণীবাগে একটি ভূগর্ভস্থ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে, যার মধ্যে ভূগর্ভস্থটি বর্তমানে অচল।
শোধনাগারের দায়িত্বরত কর্মী মিন্টু ব্যাপারী বলেন, “বর্ষার সময় নদীর পানি কিছুটা ঘোলা থাকে। আমরা ফিটকিরি ও ব্লিডিং দিয়ে শোধনাগারের মাধ্যমে পানি দিয়ে থাকি। আমাদের এখানে তেমন সমস্যা নেই। যাঁদের নিজস্ব রিজার্ভট্যাংক আছে, সেখানে ময়লা জমলে পানি খারাপ হতে পারে।”
পৌর প্রশাসকের আশ্বাস: নতুন বাজার শোধনাগারের পানিতে নালার ময়লা পানি মেশার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, “আমরা এ বিষয়ে প্রকৌশলী পাঠিয়েছি। তাঁরা বিষয়টি সরেজমিন দেখে এসেছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করব।”
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. শাহজাহান মিয়া অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের মদদপুষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে পৌরবাসী নোংরা পানি পান করছেন। এর মধ্যে আবার পানির বিলও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভায় প্রায় ১৪ হাজার পানি ব্যবহারকারী গ্রাহক রয়েছেন। নাগরিকেরা জরুরি ভিত্তিতে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার স্থায়ী এবং কার্যকর সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
আরো পড়ুন: https://banglaralo24tv.com/
















