Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

TnewsTnews
  • Home
  • জাতীয়
  • আজ সংসদ ভবনে শহীদ ওসমান হাদির জানাজা

আজ সংসদ ভবনে শহীদ ওসমান হাদির জানাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ গতকাল সিঙ্গাপুর থেকে দেশে পৌঁছেছে। আজ শনিবার বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই মহানায়কের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।

বিপ্লবী এই নেতার মৃত্যুতে আজ সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে হাদির মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজে-৫৮৫) সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর মরদেহের সঙ্গে আসেন বড় ভাই আবু বকর। বিমানবন্দরে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন সরকারের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং রাজপথের অগণিত সতীর্থ।

এ সময় বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ তাঁর সহযোদ্ধারা। শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অনেকে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আজ বেলা ২টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণে অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া সংসদ ভবন ও আশপাশ এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগকালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৯৩ সালে ঝালকাঠির নলছিটির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ওসমান হাদি জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাকার রামপুরা এলাকার সমন্বয়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে তিনি ছিলেন আপসহীন। তাঁর নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’, যা স্বল্প সময়ে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য এই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছিল সাধারণ মানুষ।

ওসমান হাদি জীবদ্দশায় বাবার পাশে কবরের ইচ্ছা পোষণ করলেও, রাষ্ট্রীয় সম্মানের কথা বিবেচনা করে সরকার তাঁকে জাতীয় কবির পাশে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাদির পরিবার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বলেছে, “ওসমান হাদি এখন রাষ্ট্রের সম্পদ। তাঁর আত্মত্যাগের গল্প যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে, সেটাই আমাদের চাওয়া।”

হাদির মৃত্যুতে তাঁর জন্মভূমি ঝালকাঠির নলছিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও সহযোদ্ধাদের দাবি একটাই—হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

আরো পড়ুন: https://banglaralo24tv.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts