নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে নতুন রোগীর চাপ। অনেক হাসপাতালেই শয্যাসংকট দেখা দেওয়ায় রোগীদের বারান্দা ও মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৪৭ জন এবং মারা গেছেন ১৭৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৭৪৭ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ হাজার ১৩৩ জন রোগী।
ঢাকার হাসপাতালগুলোর চিত্র
রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুরোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে—
- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ১৫৪ জন রোগী ভর্তি আছেন। ১ হাজার ৩৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য ১৯১টি শয্যা নির্ধারিত থাকলেও রোগীর চাপে বাধ্য হয়ে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
- এছাড়া ঢাকা মেডিকেলে ১০৫ জন, মুগডায় ৪৯ জন, কুর্মিটোলায় ৪৩ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ৪২ জন এবং মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩৭ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু
ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখন আর কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা দেশের বিভিন্ন বিভাগেও ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত—
- খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৯ হাজার ৬৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু খুলনা জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৯১ জন।
- চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ হাজার ৪৭৮ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৮ হাজার ২৯০ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আগস্টে সর্বোচ্চ আক্রান্ত, সেপ্টেম্বরেও ঊর্ধ্বগতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, আগস্ট মাসে রেকর্ড ২৩ হাজার ৩০১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনেই নতুন করে ২ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬২.৬ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৭.৪ শতাংশ। অন্যদিকে মৃতের মধ্যে নারীর হার কিছুটা বেশি, ৫২.৬ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, অক্টোবরের সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে ঢালাও মশক নিধন অভিযান না চালিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রজননস্থলগুলো (যেমন—কার পার্কিং, পানির পাত্র ও নির্মীয়মাণ ভবন) চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ সতর্ক করে জানিয়েছেন, ডেঙ্গুকে আর সাময়িক বা মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা আগামী তিন থেকে চার দশক পর্যন্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে টিকে থাকতে পারে।











