নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রতিটি পটপরিবর্তনে উলামায়ে কেরাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও পরবর্তীতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে তাদের উপেক্ষা করা হয়—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, উলামাদের রক্ত-ঘামে অর্জিত পটপরিবর্তনের পরে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তাদের বাদ দেওয়ার পরিণতি কখনোই ভালো হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ওলামা সামিট’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে উলামায়ে কেরামকে সম্পৃক্ত করুন। যে প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ জীবন ও রক্ত উৎসর্গ করে পটপরিবর্তন করে, রাষ্ট্র পরিচালনায় উলামাদের সম্পৃক্ত করা না হলে সে প্রত্যাশা পূরণ হয় না।”
জনদুর্ভোগ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাবে শত শত মানুষের মৃত্যু হলেও সরকারের মধ্যে কার্যকর কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারের উদাসীনতা লক্ষণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একাধিকবার নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সংকট মানুষের ওপর চাপানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, দাম বাড়িয়ে সংকট সমাধান না করে সমস্যার মূল উৎপাটন ও গভীর থেকে সমাধানের চেষ্টা করুন।”
সকাল ৯টায় কেআইবি অডিটোরিয়ামে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উদ্যোগে এই সামিট শুরু হয়। দেশের শতাধিক জাতীয় আলেম ও সহস্রাধিক উলামা-মাশায়েখের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি।
সামিটের শেষ পর্বে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুফতী রেজাউল করীম আবরার এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী নির্বাচিত হয়েছেন।
জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুনাজেরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন, আল্লামা ইয়াহইয়া মাহমুদ, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মুফতী মোহাম্মদ আলী, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী ও রিটকার আইনজীবীদের মধ্যে জাহিদ তালুকদার প্রমুখ।










