Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

TnewsTnews
  • Home
  • সর্বশেষ
  • চাঁদপুর-২ আসনে জামায়াত ও এবি পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

চাঁদপুর-২ আসনে জামায়াত ও এবি পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

চাঁদপুর প্রতিনিধি:

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে জোট রাজনীতির দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনী সমীকরণ এখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. আ. মুবিন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-র প্রার্থী রাশিদা আক্তার মিতু তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেওয়া ঘোষণায় তারা জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও জোটের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে চাঁদপুর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী থাকা না থাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা, জল্পনা ও রাজনৈতিক কৌতূহলের অবসান ঘটে।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আ. মুবিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ মাঠে নেতা-কর্মী, সহযোদ্ধা, শুভানুধ্যায়ী ও আমার সাহচর্যি, সবার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

ডা. মুবিন আরও উল্লেখ করেন, মতলবের মাটি ও মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাই তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।

এ বিষয়ে ডা. মুবিন জানায়, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি কেন্দ্রীয়ভাবে জানানো হয়েছে। একজন শপথের কর্মী হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, নমিনেশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কেন্দ্র। আমি শপথের কর্মী। আমার কাছে দ্বিতীয় কিছু নাই।

নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ালেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, আল্লাহ যে পরিসরে সুযোগ দেবেন, সেখানেই তিনি মতলবাসীর পাশে থাকবেন। মতলবের নদী, চর ও মানুষের সঙ্গে আজীবন পথচলার কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে।

জামায়াত ও এবি পার্টির প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর চাঁদপুর–২ আসনে ১০ দলীয় জোটের একক ও চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজিকে (ছাতা প্রতীক)। ফলে এই আসনে জোটের পক্ষ থেকে আর কোনো বিভাজনমূলক প্রার্থী থাকছে না।

এলডিপির নেতারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত জোটের ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে এবং নির্বাচনী মাঠে সমন্বিত ও শক্তিশালী প্রচারণার পথ প্রশস্ত করবে।

এ বিষয়ে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজি বলেন, জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। জামায়াত ও এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা জোটের রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও ঐক্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি বিশ্বাস করি, মতলব উত্তর–দক্ষিণের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা একটি অর্থবহ ও শক্তিশালী লড়াই উপহার দিতে পারব।

ডা. মুবিনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগ ও কিছুটা হতাশা থাকলেও অনেকেই এটিকে জোটের স্বার্থে নেওয়া একটি কঠিন কিন্তু শৃঙ্খলাবদ্ধ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষে রাশিদা আক্তার মিতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে চাঁদপুর–২ আসনে আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলাম।

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-র একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। জোটের বৃহত্তর স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও এবি পার্টি প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো চাঁদপুর–২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও স্পষ্ট ও তীব্র করেছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর–২ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও এবি পার্টির প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বর্তমানে মাঠে রয়েছেন বিএনপির ড. মো. জালাল উদ্দিন, এলডিপির বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, জাতীয় পার্টির মো. এমরান হোসেন মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মানছুর আহমেদ সাকি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির ফয়জুন্নুর আখন রাসেল, গণঅধিকার পরিষদের গোলাম হোসেন, নাগরিক ঐক্যের এনামুল হক এবং লেবার পার্টির নাসিমা আক্তার।

অন্যদিকে, ঋণখেলাপির অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর হুদার মনোনয়ন এখনও আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts