নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি নীতি নির্ধারণী কাজ করবে।
গত সোমবার (১৮ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের বরাতে জানা গেছে, নতুন এই জাতীয় সমন্বয় কমিটি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন, প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং বিভিন্ন আন্তঃসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকি করবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটিকে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কারের সুপারিশ করার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মসমূহ নিয়মিতভাবে তদারকি করবে এই কমিটি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় সাধন করা হবে। নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে কমিটির নির্ধারিত বিষয়ের আলোকে বিভিন্ন বাহিনীর নির্দিষ্ট কার্যপরিধি এবং ক্ষেত্রও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় এই কমিটির বিশেষ বা সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে।
সরকারের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির কাঠামো নিচে দেওয়া হলো:
- সভাপতি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সহ-সভাপতি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী
- প্রধান সমন্বয়ক: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: मंत्रিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানদের মধ্যে কমিটিতে রয়েছেন:
- মহাপরিচালক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর (ডিজিএফআই)
- মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদফতরের (এনএসআই)
- মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)
- মহাপরিচালক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল (এনটিএমসি)
- মহাপরিচালক, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)
- অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)
এই কমিটিকে সার্বিক সাচিবিক ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার জন্য আরও চারজন পদস্থ কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটের (এসএসইউ) অতিরিক্ত police মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে দেশের সবকটি আইন প্রয়োগকারী, গোয়েন্দা ও তথ্যপ্রযুক্তি নজরদারি সংস্থার কাজের মধ্যে এক ধরনের গতিশীলতা আসবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নীতি নির্ধারণে এটি সরাসরি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।














