নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারকে উদ্দেশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন একটি ট্রেন্ড চলছে—সবাই যেন আশির দশকে ফেরত যাচ্ছে। এই সরকারকে দেখেও মনে হচ্ছে, তারাও যেন আশির দশকে ফিরে যেতে চাইছে। আশির দশকে তো এমন গ্যাস-বিদ্যুৎ ছিল না। সরকার হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ডের সঙ্গেই থাকার চেষ্টা করছে। তবে আমরা বলব, সরকার ট্রেন্ডের সঙ্গে থাকুক, কিন্তু তা যেন ইতিবাচকভাবে হয়।
বুধবার বিকেলে জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পুরো পৃথিবী যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে—এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা। এত বড় একটি গণঅভ্যুত্থান এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে সরকারের বিশেষ নীতি ও পরিকল্পনা থাকা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গেই ‘বিশ্ব’ শব্দটি যুক্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো আঞ্চলিক বা কেবল জাতীয় বিষয় নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হলো বিশ্বমানের চিন্তা-চেতনা ধারণ করা এবং নতুন প্রজন্মকে আগামীর পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অপরিকল্পিত প্রবণতার সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সম্প্রতি সংসদে এক সংসদ সদস্য তার জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানানোর পর আরও ১০ জন সংসদ সদস্য ১০টি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি তোলেন। বিগত শাসনামলেও আমরা দেখেছি, কেবল দলীয় লোকদের চাকরি দেওয়া বা রাজনৈতিক খাতিরে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার প্রবণতা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জেলাভিত্তিক উদ্যোগ হতে পারে না; এর পেছনে সুনির্দিষ্ট জাতীয় পরিকল্পনা ও রূপকল্প থাকতে হবে। সারা দেশে যত্রতত্র ৭১টি জেলায় কেবল স্নাতক তৈরির চেয়ে গবেষণানির্ভর ১০টি কার্যকর বিশ্ববিদ্যালয় অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও সরকারি চাকরির ভাইভা প্রসঙ্গে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার না করলে তরুণদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের মন্ত্রীরা নির্বাচনের আগে ভাইভার নম্বর কমিয়ে আনার কথা বললেও ক্ষমতায় এসে বিপরীত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “কোটা হাসিনাকে দিল্লি পাঠিয়েছে, ভাইভা আপনাদের কোথায় পাঠায় নিজেরাও টের পাবেন না।” অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত না নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভ্যুত্থানে যে ত্যাগ ও রক্ত দিয়েছেন, তা আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি পূর্ণ সমবেদনা জানাই। এনসিপি তরুণ ও শিক্ষার্থীদের দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও সহযোগিতাতেই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতুসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভা শেষে ‘জুলাই ৩৬’ কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।















