রাজনৈতিক ডেক্স:
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে জামায়াতের আমীর জাতীয় নির্বাচনের আগেই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। জামায়াতের ইন্ধনেই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ঝটিকা মিছিল করার সাহস পাচ্ছে। কিন্তু এই আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা হলে তারা আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসি দেবে। তাই জামায়াত নেতাদের এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, জামায়াত অতীতে কখনো জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হতে পারেনি। এবার তারা বিরোধী দল হয়ে সংসদে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করেছে। নিয়ম অনুযায়ী ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করবে এবং যৌক্তিক সমালোচনা করবে। অথচ জামায়াতের নেতৃত্বে সেই ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের গঠনমূলক ভূমিকার বদলে উল্টো বিরোধিতা করছে। তারা জ্বালানি সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যাকে পুঁজি করে সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের নামে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।
জামায়াতের আমীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার হুমকির যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদল আওয়ামী লীগকে মাঠে নামানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে, আর অন্যদল লংমার্চের নামে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ বুঝে গেছে এবং জামায়াত-আওয়ামী লীগের এই আঁতাতের ডাকে সাধারণ মানুষ আর রাজপথে নামবে না।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, এই সরকারের আমলেই দেশ ও রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে পুনর্গঠন করতে হবে। যদি এই সুযোগ হাতছাড়া হয়, তবে রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আর কখনো হবে না। বর্তমানে সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে মাঠে আওয়ামী লীগকে নামানোর চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালের ঘাতক ও ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তি আজ এক হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
এর আগে সকালে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাশেদ খান। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলেজটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।









