চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের বড় হলদিয়া গ্রামে অবস্থিত ‘রুহামা মডেল একাডেমি’র শিক্ষার্থীদের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী হজ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্রিয়েটিভ আইডিয়াল সোসাইটি’ পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ আয়োজন করে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অর্থবহ শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, ব্যবহারিক শিক্ষা ও নৈতিক मूल्यবোধের সমন্বয়ের মাধ্যমেই প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয়। এই মূল ভাবনা থেকেই শিশুদের জন্য এই বাস্তবধর্মী হজ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বিদ্যালয় মাঠকে প্রতীকীভাবে কাবা শরিফ, সাফা-মারওয়া পাহাড়, মিনা, আরাফাহ ও মুযদালিফার আদলে চমৎকারভাবে সাজানো হয়। শিশু শিক্ষার্থীরা সাদা ইহরাম পরিধান করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা অনুশীলন করে।
তারা একে একে কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ, মিনায় অবস্থান, আরাফাতের ময়দানে উকুফ, মুযদালিফায় কঙ্কর সংগ্রহ, রমি আল-জামারাত (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ), কুরবানি, হালক/তাকসির (চুল কাটা) এবং বিদায়ী তাওয়াফের মতো হজের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাস্তবে সম্পাদন করে।
প্রশিক্ষণ চলাকালে শিশুদের অভূতপূর্ব উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আন্তরিক অংশগ্রহণ উপস্থিত অভিভাবকদের মুগ্ধ করে। এ সময় সালাউদ্দিন, টিপু সুলতান ও নাসরিন আক্তার নামের কয়েকজন অভিভাবক বলেন:
“শুধু বইয়ের পাতা পড়ে নয়, বাস্তবে দেখে ও নিজে অংশ নিয়ে শিশুরা হজের কঠিন বিষয়গুলো খুব সহজে বুঝতে পারছে। এটি তাদের ধর্মীয় জ্ঞান ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে শামিল হতে পেরে আনন্দের কমতি ছিল না শিশুদের মাঝেও। লাবিবা রহমান, রাদিয়া আক্তার ও ফাতিমা সুলতানা নামের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, এমন আয়োজন পেয়ে তারা অনেক আনন্দিত। বাস্তবভাবে হজের বিভিন্ন ধাপ নিজে হাতে কলমে অনুশীলন করতে পেরে তাদের দারুণ লেগেছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মো. বায়েজিত বলেন, “শিশুদের মাঝে ইসলামের মৌলিক শিক্ষাকে আনন্দঘন ও বাস্তবধর্মী উপায়ে তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমাদের এই ধরনের শিক্ষামূলক ও ব্যবহারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
ধর্মীয় শিক্ষাকে আনন্দময় ও প্র্যাকটিক্যাল উপায়ে উপস্থাপনের এই অভিনব উদ্যোগটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় সুধীসমাজ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং এলাকায় একটি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।














