নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুর শহরের একটি ডকইয়ার্ডে নৌযানে রঙের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. জুয়েল (২৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকাল ৯টায় শহরের ইচুলী ঘাট এলাকার ‘সেলিম এন্ড ব্রাদার্স’ ডকইয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল শহরের নতুন বাজার মধ্য ইচুলি এলাকার কুদ্দুস ব্যাপারীর ছেলে। তিনি এক সন্তানের জনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও জুয়েল সেলিম এন্ড ব্রাদার্স ডকইয়ার্ডে কাজে যোগ দেন। ডকইয়ার্ডে থাকা একটি নৌযানের নিচে পানিতে দাঁড়িয়ে তিনি রঙের কাজ করছিলেন। এসময় নৌযানটিতে থাকা বৈদ্যুতিক ক্যাবলের লিকেজ থেকে পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জুয়েলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। মাত্র ২ বছরের এক শিশু সন্তান রেখে জুয়েলের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা।
নিহতের স্বজনরা এই মৃত্যুকে কেবল দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ— ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে। তারা বলেন:
“শ্রমিকদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই এই ডকইয়ার্ডে। মালিকপক্ষের সতর্ক থাকা উচিত ছিল। গত বছরও এই একই ডকইয়ার্ডে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্য এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক এমন ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রতিকার নেই।”
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নাজমুল হাসান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই জুয়েলের মৃত্যু হয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ফলে ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে’ তার মৃত্যু হয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, ইচুলী ঘাটের ডকইয়ার্ডগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। সেলিম এন্ড ব্রাদার্স ডকইয়ার্ডে ইতিপূর্বেও একই ধরনের দুর্ঘটনার রেকর্ড থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।














