স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামে যথাযথ উৎসাহ, উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নগরীতে এক বিরাট মহা শোভাযাত্রা বের হয়, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ অংশ নেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগরীর ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লাহ মোড় থেকে এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ গড়তে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এখানে বিভেদের কোনো স্থান নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন মানুষকে সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবতার পথে চলার শিক্ষা দেয়। অন্যায়, অসত্য ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা শ্রীকৃষ্ণ দিয়ে গেছেন, তা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, কোনো অপশক্তি যাতে এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় বক্তারা জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তাদের ১৫ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানান।
উদ্বোধন শেষে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য মহা শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় শ্রীকৃষ্ণের সুসজ্জিত প্রতিকৃতি, নানা রঙের ধর্মীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন স্থান পায়। অংশগ্রহণকারীদের মুখে ভক্তিমূলক স্লোগান ও কীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে নগরীর পরিবেশ। শোভাযাত্রাটি আন্দরকিল্লাহ থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে শোভাযাত্রার পুরো রুটজুড়ে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শোভাযাত্রা সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক কমিটি ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।













