নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের আকাশ থেকে ঝরা মাত্র ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টির কাছে আবারও নতি স্বীকার করল নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। গত সপ্তাহে সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে খালের বাঁধ অপসারণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা ‘সহনীয়’ রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও, শনিবারের মাত্র তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও নাকাল হয়েছে বন্দরনগরী। বিশেষ করে প্রবর্তক মোড় ও কাতালগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পরিণত হয়েছে এক একটি ডোবায়।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে মাত্র ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভাষায় এটি ‘মাঝারি বর্ষণ’ হলেও চট্টগ্রামের জন্য তা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকেলের এই বৃষ্টিতে প্রবর্তক মোড়, মেহেদীবাগ, পাঁচলাইশ ও কাতালগঞ্জসহ বেশ কিছু নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে প্রবর্তক মোড়ে দেখা যায় কোমর সমান পানি। এতে দোকানপাট ও নিচু এলাকার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
গত সপ্তাহে টানা দুই দিনের জলাবদ্ধতার পর চসিক (চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন) ও সিডিএ (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) জানিয়েছিল, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খালের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য দেওয়া অস্থায়ী বাঁধগুলোই পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাঁধগুলো অপসারণ করা হয়েছে এবং এখন থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু তিন দিনের মাথায় আবারও একই চিত্র দেখা যাওয়ায় নগরবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী বলেন, “বাঁধ সরানোর কথা বলা হলেও আমাদের ভোগান্তি তো সরেনি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় নৌকা চালানোর দশা হয়। প্রশাসনের আশ্বাস আসলে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।”
হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় রাস্তায় চলাচলরত সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে শত শত যানবাহন আটকে তৈরি হয় ভয়াবহ যানজট। অফিসফেরত মানুষ ও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীরা কয়েক ঘণ্টার জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, খালগুলো থেকে ৩০টি বাঁধ অপসারণ করা হলেও ভেতরের পড়ে থাকা মাটি পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। আর এই কারণেই বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। তবে চসিকের দাবি, এটিকে ‘জলাবদ্ধতা’ বলা যাবে না; বরং এটি সাময়িক ‘জলজট’। পানি আগের চেয়ে অনেক দ্রুত নেমে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু বাঁধ অপসারণ নয়, খালের তলদেশ থেকে মাটি অপসারণ ও নালাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করলে চট্টগ্রামের এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ থেকে মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাত বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরো দেখুন: https://banglaralo24tv.com/









