Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

TnewsTnews
  • Home
  • সর্বশেষ
  • ভুতুড়ে খালের ওপর পৌনে ৪ কোটির সেতু, বিপাকে এলাকাবাসী

ভুতুড়ে খালের ওপর পৌনে ৪ কোটির সেতু, বিপাকে এলাকাবাসী

ভুতুড়ে খালের ওপর পৌনে ৪ কোটির সেতু, বিপাকে এলাকাবাসী

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় খালের অস্তিত্ব না থাকলেও প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আরসিসি স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবতা যাচাই না করেই এই প্রকল্প গ্রহণ করায় সরকারি অর্থের চরম অপচয় হচ্ছে। এদিকে সেতুর সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণকে কেন্দ্র করে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কয়েকটি পরিবার।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের গোডন্দা এলাকায় ‘মানপাশা জিসি–তালতলা–ভবানীপুর হয়ে নাচনমহল ইউনিয়ন সড়ক’ উন্নয়ন প্রকল্পের (বিডিআইআরডবলুএসপি) আওতায় এই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ১০ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি স্ল্যাব সেতুটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেখানে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে আগে একটি ছোট বক্স কালভার্ট ছিল। কালের বিবর্তনে সেই খালের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। পানিপ্রবাহ বা নৌ-চলাচলের কোনো সুযোগই যেখানে নেই, সেখানে নতুন করে পৌনে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল সেতু নির্মাণের কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

সেতুটি দৃশ্যমান হলেও এখন বড় সংকট তৈরি হয়েছে সংযোগ সড়ক নিয়ে। স্থানীয় ভুক্তভোগী আব্বাস হাওলাদার, মোর্শেদা বেগম, জামাল ও সবুজ জানান, সেতুটি সচল করতে যে সংযোগ সড়ক তৈরি করা হচ্ছে, তার ফলে তাদের বাড়ির সামনের স্বাভাবিক চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সুরাহা না হলে তারা সপরিবারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

“সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে আমাদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হবে। আমরা এই সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান চাই।”

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মঈনুল আযম এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদার পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে এই প্রকল্প পাস করিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম বলেন,

“আমি কোনো অনিয়মের সাথে জড়িত নই। স্থানীয় যে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলছেন, তাদের জন্য বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।”

জানতে চাইলে নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, “সেতুটি মূলত আগের একটি কালভার্টের স্থানেই নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা আমরা ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করছি। স্থানীয় জনগণের ক্ষতি না করে কীভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিকল্পনাহীন এই অবকাঠামো নির্মাণে একদিকে সরকারি তহবিলের অপচয়, অন্যদিকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে গোটা এলাকায়। স্থানীয়রা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts