নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে পিরোজপুর জেলার অবহেলিত ও বেহাল সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দপ্তরে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কাছ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট গ্রহণ করেন, যেখানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’সহ ৩৮টি দুর্নীতির খতিয়ান উঠে এসেছে।
বৈঠকে পিরোজপুর জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়িত ও চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রতিটি প্রান্তে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা সরকারের অঙ্গীকার। পিরোজপুরের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

আলোচনায় উঠে আসে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই অঞ্চলে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনেক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই নতুন উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
- মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন।
- আহম্মদ সোহেল মনজুর, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী (পিরোজপুর-২)।
- মাসুম সাঈদী, সংসদ সদস্য (পিরোজপুর-১)।
- রুহুল আমিন দুলাল, সংসদ সদস্য (পিরোজপুর-৩)।
- শহীদুল হাসান, সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ।
গতকাল বিকেলে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট পেশ করেন। এই রিপোর্টে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসন প্রকল্পের চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য স্থান পেয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালে আবাসিক ভবনের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় ১৬৯ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। যার মধ্যে প্রতিটি বালিশের দাম দেখানো হয়েছে অবিশ্বাস্য।
বালিশ কাণ্ডের দুর্নীতির খতিয়ান:
- প্রতিটি বালিশের ক্রয়মূল্য: ৫,৯৫৭ টাকা।
- বালিশ তোলার মজুরি: ৭৬০ টাকা (প্রতিটি)।
- কমফোর্টারের দাম: ১৬,৮০০ টাকা (বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১৩,৫০০ টাকা)।
- বিছানার চাদর: ৫,৯৩৬ টাকা (বাজারমূল্য প্রায় ৩,৫০০ টাকা)।
প্রতিবেদনে বালিশের আকাশচুম্বী দাম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রসিকতা করে বলেন, “এই দামি বালিশের একটি নমুনা জাদুঘরে রাখা উচিত।”
প্রধানমন্ত্রী সিএজিকে প্রতিটি দুর্নীতির ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিতের তাগিদ দেন। অডিট রিপোর্ট পেশ করার সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।














