নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে’—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশের ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের ভাগ্য বদলে বিশাল কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম দিনে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির ‘প্রি-পাইলটিং প্রজেক্ট’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হবে। তবে এটি কেবল শুরু। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় ১৫ জন কৃষক-কিষানির হাতে কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন। একইসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অন্যান্য উপজেলার কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।
পয়লা বৈশাখকে উদ্বোধনের দিন হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
”পয়লা বৈশাখ বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য, যা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের কৃষক ভাই-বোনদের জীবনের সাথে। এই সরকার জনগণের সরকার। আমরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কালির দাগ মোছার আগেই বাস্তবায়ন করছি।”
বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করেছিলেন। গত ১৭ বছরে সেই খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা পানির সংকটে ভুগছেন। তাই আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কার্ডে ১০টি বিশেষ সুবিধা থাকছে যা কৃষকের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এছাড়া:
- খাদ্যঘাটতি মেটাতে ও ফসল সংরক্ষণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে।
- নারীদের স্বাবলম্বী করতে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নারী প্রধানদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, কার্ডে জমির পরিমাণ উল্লেখ থাকায় কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। এছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সকল ডিজেল চালিত সেচ পাম্পকে সোলার পাওয়ার সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শী।
সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে দুই দিনব্যাপী কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে কৃষকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন।
আরো পড়ুন: https://banglaralo24tv.com/















