ডেক্স রিপোর্ট:
কুষ্টিয়ায় বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে জামায়াতে ইসলামী এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খাঁন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে এর স্বীকৃতি রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় চিরতরে শেষ হয়ে গেছে এবং নতুন করে তাদের বাংলাদেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে একাত্তরের চেতনাবিরোধী ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করছে।
জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। এই জাতীয় সংকটকে পুঁজি করে লংমার্চের মতো কর্মসূচি পালন করলে সংকট কমার পরিবর্তে আরও বাড়াবে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারের পাশে থেকে সহযোগিতাসূচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে রাশেদ খাঁন বলেন, রাষ্ট্রকে অশান্ত করে তুললে এবং জামায়াত যদি অতীতে ১৯৯৬ সালের মতো আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক জোট বাঁধার চেষ্টা করে, তবে এদেশের সচেতন জনগণই তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। শহীদ আবরার ফাহাদকে যেভাবে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ যদি কোনোভাবে ফিরে আসে, তবে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার এবং কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।








