নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রতিভার অন্বেষণে এক মহাজজ্ঞের সূচনা হলো। শনিবার (২ মে) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ের বৃহৎ প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সিলেটসহ দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রথাগত লিখিত বক্তব্য পাশে সরিয়ে রেখে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হৃদয়স্পর্শী এক ভাষণ দেন। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো শিক্ষার্থীকে ‘প্রধান অতিথি’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, “আজকে বক্তব্য দিতে ইচ্ছা করছে না, তোমাদের সঙ্গে কথা বলি। তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য থেকেই তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও নেতৃত্ব। তোমরাই আগামী দিনে এই দেশকে পরিচালনা করবে।”
অনুষ্ঠানে এই মেগা প্রকল্পের পেছনের গল্প শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে খাবার টেবিলে বসে এই পরিকল্পনার সূত্রপাত। তিনি বলেন, “আমি, আমার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সাবেক জাতীয় গোলরক্ষক আমিনুল হক (বর্তমানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) বসে আলাপ করছিলাম। স্পোর্টস নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, বাংলাদেশে প্রতিভার খোঁজে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করব। আজ সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরু হলো।”
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি চাই তোমরা প্রত্যেকে বাংলাদেশের একেকজন অ্যাম্বাসেডর হবে। যে খেলোয়াড় হতে চাও, আমরা তার জন্য ব্যবস্থা করব। যে গায়ক বা মিউজিশিয়ান হতে চাও, তার পথও আমরা তৈরি করে দেব। তোমরা যত সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশের ভিত্তি তত শক্তিশালী হবে।”
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রামাণ্যচিত্র এবং ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ শীর্ষক থিম সং পরিবেশন করা হয়। পরে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ ৮টি ইভেন্টে চিত্তাকর্ষক অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে মাঠে গিয়ে প্রতিযোগীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কর্মসূচির ট্রফি ও লোগো উন্মোচন করেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র অনুপ্রেরণায় শুরু হওয়া এই উদ্যোগ দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে আগামীর ক্রীড়া নক্ষত্র খুঁজে বের করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরো দেখুন: https://banglaralo24tv.com/














