বিশেষ প্রতিনিধি:
জীবিকার তাগিদে ২০০৮ সালে সৌদিতে যাওয়া চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সহজ-সরল প্রবাসী মো. শহিদুল্লাহর জীবন আজ এক গভীর ট্র্যাজেডিতে পর্যবসিত। ২০১৩ সাল থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম কারাগারে বন্দি আছেন তিনি। মাথার ওপর ঝুলছে মৃত্যুদণ্ডের খড়্গ। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে প্রিয় মানুষটির অনুপস্থিতি ও ফাঁসির আশঙ্কায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। শহিদুল্লাহকে আইনি সহায়তা দিয়ে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রবাস কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
পরিবার সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তফিরা গ্রামের মো. শহিদুল্লাহ। চার বছর পর দেশে এসে ছুটি কাটিয়ে ২০১৩ সালে পুনরায় কর্মস্থলে ফেরেন। এর পরপরই তাঁর জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই থেকে তিনি দাম্মাম কারাগারে বন্দি। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারির একটি চিঠি সূত্রে জানা যায়, এক সৌদি নাগরিককে (জাকী আল আশুর) হত্যার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচার প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় আসার পর বর্তমানে রায় কার্যকরের অপেক্ষায় দাম্মাম কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, পড়ালেখা না জানা অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির শহিদুল্লাহকে এক পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁদে ফেলা হয় এবং দীর্ঘদিন নির্যাতন করা হয়। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি স্বজনদের।
শহিদুল্লাহর পরিবারে রয়েছেন ৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধা মা খুশিদা বেগম, স্ত্রী পেয়ারা বেগম, ২২ বছর বয়সি ছেলে জিহাদ এবং ১৭ বছর বয়সি মেয়ে ফিয়া আক্তার। ১৪ বছর ধরে পরিবারটিতে কোনো সুখের বা স্বস্তির বার্তা আসেনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী পেয়ারা বেগম বলেন, ‘যখন কারাগারে যান, ছেলের বয়স তখন মাত্র ৭ বছর। অভাবের তাড়নায় মাত্র ১৪ বছর বয়সে ছেলেকে সংসারের ভার কাঁধে নিতে হয়। শৈশব হারিয়ে সে আজ ক্লান্ত। আমি সরকারের কাছে আমার স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাই।’
বৃদ্ধা মা খুশিদা বেগম বলেন, ‘কাঁদতে কাঁদতে দুই চোখ অন্ধ হওয়ার উপক্রম। বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুর আগে ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে চাই।’
শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ছেলে জিহাদ হোসেন বলেন, ‘ছোট বয়সে কাজে নামায় শরীর ভেঙে পড়েছে। বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ। সরকারকে বিনীত অনুরোধ, বাবাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন।’
সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন, লিয়াঁজো বা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে শহিদুল্লাহর সাজা মওকুফ বা হ্রাস করিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাস কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। একটি জীবন ও একটি পরিবারের ধ্বংস ঠেকাতে এখন সরকারি কূটনৈতিক উদ্যোগই একমাত্র ভরসা।














