Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

TnewsTnews
  • Home
  • শিক্ষা
  • মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করবে সরকার: মাহদী আমিন

মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করবে সরকার: মাহদী আমিন

মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করবে সরকার: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে ব্যাপক সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি চালু হবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ ও মানসিক প্রফুল্লতার জন্য চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপলার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সরকার একটি ‘মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা’ গড়ে তুলতে চায়। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি, যাকে বলা যায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা। এখানে শিক্ষার্থীদের জোর করে শেখানো হবে না, বরং একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সর্বোত্তম সম্পর্কের মাধ্যমে মেধার বিকাশ ঘটবে।

তিনি জানান, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা চালুর প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে এবং সব শিক্ষার্থীর কাছে এটি পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। শিক্ষা ব্যবস্থার এই রূপান্তরে আন্তর্জাতিক অংশীজন ও উন্নয়ন সহযোগীদের আরও সমন্বিত ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে নতুন সরকারের জন্য ৪৮ মিলিয়ন ডলার অনুদান বরাদ্দ করায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে যে সংস্কারের প্রয়োজন ছিল, এই অর্থ সেখানে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা হবে। এই অনুদান যেন প্রধানমন্ত্রীর প্রণীত নীতিকাঠামো এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সংগতিপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।

শহর ও গ্রামের মধ্যকার বৈষম্য কমিয়ে আনতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’-এর মতো উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সমতা ফেরাতে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ইউনিফর্ম, একই স্কুলব্যাগ ও একই জুতা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ‘মিড-ডে মিল’ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলেন শিক্ষকরা। পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষণ পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ ও বৈষম্য হ্রাস—এই পুরো বিষয়টিকে সরকার ‘৩৬০ ডিগ্রি দৃষ্টিভঙ্গি’ থেকে দেখছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়াতে বৈশ্বিক সেরা প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান এই মাল্টিপলার গ্র্যান্ট শিক্ষকদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। শিক্ষা ব্যবস্থার এই মৌলিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আগামী দিনে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts