স্টাফ রিপোর্টার:
পলাতক স্বৈরাচারের অর্থে একটি পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সরকারের এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক ব্যর্থতা, অপরিপক্বতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির কার্যালয়ে দলটির ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে জামায়াত নেতা প্রশ্ন তুলে বলেন, “আপনি কোন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেন? আপনার ওই সমস্ত গোয়েন্দা তথ্য ভুয়া। যে গোয়েন্দা বাহিনী বা সেটআপ আওয়ামী লীগ রেখে গিয়েছে—যারা নিরীহ মানুষকে জঙ্গি বানিয়ে ক্রসফায়ারে দিয়েছে, রিমান্ডে ও আয়নাঘরে নিয়েছে, সেই গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে আপনি এখন বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাবেন?”
সরকারকে অভিযুক্ত করে তিনি আরও বলেন, “এর আগে আমাদের কাছে তথ্য আছে—দিল্লির সাথে আপনাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। সেই গোয়েন্দাকে আপনি বিশ্বাস করেন, যারা একদিনে বাংলাদেশের সকল জেলায় আওয়ামী লীগকে মিছিল করতে সাহায্য করেছে। আর আপনি সেই তথ্যের সূত্র দিয়ে বলেন যে বিরোধী দল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।”
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রশংসা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংসদের ইতিহাসে তাঁর মতো দেশপ্রেমিক ও সৎ নেতৃত্ব পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিকে ঢাকবার আর কোনো পথ না পেয়েই জামায়াত আমিরের মতো দেশপ্রেমিক বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক দলকে পৃথক সত্তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এই তিনটিকে গুলিয়ে ফেলেছে। সরকারের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করার বিরুদ্ধে কথা বললেই অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, “আপনি রাষ্ট্র ও সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে সরকার, রাষ্ট্র ও সরকারি দলের পার্থক্য দয়া করে সরকারকে একটু বোঝানোর চেষ্টা করুন। আপনি তাদের একটু ক্লাস করান, তারা এই তিনটি অর্গানকে গুলিয়ে ফেলছে এবং বিরোধী দলকে ভুল বুঝছে।”
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরওয়ার উল্লেখ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আরও বেশি। ২০২৩ সালে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম ২৩ হাজার টাকা মজুরির দাবি যৌক্তিক।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।














