বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক্রীড়া শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে। একটি সুস্থ, সচেতন, কর্মক্ষম ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম।
আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রতিযোগিতা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী আয়োজক, অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা, বিচারক, ক্রীড়া সংগঠকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এটি কেবল একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রতিভার বিকাশ, তরুণ-তরুণীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।”
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ক্রীড়া এখন শুধু বিনোদন বা শারীরিক সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং একটি পেশা হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশেও ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই ক্রীড়া শিক্ষাকে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করেছে। দৌড়, লাফ ও নিক্ষেপের মতো ইভেন্টগুলো একজন অ্যাথলেটের গতি, শক্তি, সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে মৌলিক ভূমিকা পালন করে।
তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী রয়েছে। আর্থিক বা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেন কোনো প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। উপযুক্ত পরিবেশ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ, বিজ্ঞানভিত্তিক অনুশীলন, পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ পেলে এরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।
নারী অ্যাথলেটদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অ্যাথলেটিক্সে নারীরা যেন পিছিয়ে না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী অ্যাথলেটদের প্রতিভা বিকাশ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং দেশ-বিদেশের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিতে হবে।
যুবসমাজকে সুপথে রাখার মাধ্যম হিসেবে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। খেলাধুলা তরুণদের মাদক, হতাশা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রেখে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ের আনন্দে সংযত থাকা এবং পরাজয় থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করার মতো ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা ধারণ করতে অ্যাথলেটদের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়নে সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।














