নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের আইনগিরী বাতাবাড়িয়া গ্রামের ফকির বাড়িতে গত শুক্রবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় রক্তাক্ত আহত এএসআই শহিদুল ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া আলামত (মোবাইল ফোন) উদ্ধারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার মধ্যরাতে কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল মাদকের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আইনগিরী বাতাবাড়িয়া গ্রামের দিদার হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযান শেষে বাড়িটি থেকে বের হওয়ার সময় ওত পেতে থাকা মাদক কারবারিরা এএসআই শহিদুল ইসলামের ওপর হঠাৎ হামলা চালায়। এ সময় মাথায় টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করা হয় তাকে। আকস্মিক হামলায় পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় এএসআই শহিদুলকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
হামলার শিকার এএসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে গেলে একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ মাথায় টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।”
আলামত উদ্ধার নিয়ে প্রশ্ন ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ:
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের ওপর হামলার সময় তাড়াহুড়ো করে ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল ফোন ফেলে যায় কারবারিরা। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সেই মোবাইল ফোনটি উদ্ধার বা প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপরাধীদের শনাক্তে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছুদিন আগে আইনগিরী ও বাতাবাড়িয়া গ্রামে প্রশাসন, সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে মাদকবিরোধী সমাবেশ হয়। সেখান থেকে গণস্বাক্ষর নিয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের একটি তালিকা কচুয়া থানায় জমা দেওয়া হয়। তালিকায় এরশাদ হোসেন, সাইদুল্লাহ, আনোয়ার হোসেন, নাবিল হোসেন, ওজুফা খাতুন, মাসুদ ও আলমগীর হোসেনসহ অনেকের নাম রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ, তালিকা জমা দিলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলা থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা এনে এই গ্রামে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য:
এ বিষয়ে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ কর্মকর্তার ওপর এমন হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং মাদকের উৎস নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।














