নিজস্ব প্রতিবেদক:
মোবাইল ফোনের আবদার পূরণ না করায় অভিমান করে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ নিয়ে রাতে একাই থানায় হাজির হয়েছিল চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতের এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ইতিবাচক হস্তক্ষেপে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।
হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত/দায়িত্বরত) জহির হোসেন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আলামিন নামের ওই শিশুটি হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মহনপুর গ্রামের সফিকের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পরিবারের কাছে একটি মোবাইল ফোনের আবদার জানায় আলামিন। পরিবার তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে মারধরের অভিযোগ তুলে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে একাই হাজীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয় সে। গভীর রাতে ছোট শিশুকে থানায় দেখে ডিউটি ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন শিশুটির সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলেন এবং তার আসার কারণ শোনেন। এরপর জরুরি ভিত্তিতে আলামিনের বাবা-মাকেও থানায় ডেকে পাঠানো হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা জহির হোসেন জানান, ‘শিশুটিকে বুঝিয়ে শান্ত করা হয় এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে পারিবারিক বিষয়গুলো ভালোবাসা, ধৈর্য ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া ছোটখাটো বিষয়ে সন্তানের মনে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও তাদের সতর্ক করা হয়েছে।’
পুলিশের মধ্যস্থতায় বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। পরবর্তীতে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক মামলা বা আইনগত জটিলতায় না গিয়ে রাতেই শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের জিম্মায় বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।














