Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

TnewsTnews
  • Home
  • সর্বশেষ
  • চাঁদপুরে ২০ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে চরম অনিয়মের অভিযোগ

চাঁদপুরে ২০ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে চরম অনিয়মের অভিযোগ

চাঁদপুরে ২০ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে চরম অনিয়মের অভিযোগ

চাঁদপুর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর-এখলাসপুর সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই তড়িঘড়ি করে তা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে অভিযোগ ওঠার পর রাতারাতি নির্মাণসামগ্রী অপসারণের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকল্পের মান, সরকারি তদারকি এবং জনগণের অর্থের অপচয় নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘চট্টগ্রাম বিভাগ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় ছেংগারচর-এখলাসপুর সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ কিলোমিটার ৩০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটির প্রস্থ ১০ ফুট থেকে ১৮ ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুনা ট্রেডার্স

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সড়ক নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করে আসছিল। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, যদি ব্যবহৃত ইটের মান ঠিকই থাকে, তাহলে অভিযোগ ওঠার পর রাতারাতি সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন? এতে তো অনিয়মের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়।”

আরেক বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, “জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এমন নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অনিয়ম ধামাচাপা না দিয়ে এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।”

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলায় ওই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও হারুনুর রশিদ জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বর্ষাকালে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখন আবার নিম্নমানের ইট সরিয়ে নতুন করে কাজ করতে যাওয়ায় সময় ও মানুষের ভোগান্তি—দুটিই আরও বাড়বে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম নিম্নমানের ইটের খোয়া সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বর্তমানে প্রকল্পের নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ চলছে।” তবে কীভাবে বা কেন এই নিম্নমানের ইট নির্মাণস্থলে এলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

মতলব উত্তর উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার এ প্রসঙ্গে বলেন, “নির্মাণকাজে ত্রুটি ছিল। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরই নিম্নমানের ইট দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের (২০২৬) জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে, অথচ কাজ এখনো বাকি।

নিয়মিত সরকারি তদারকি থাকার পরও কীভাবে ঠিকাদার নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করার সাহস পেল এবং অভিযোগ ওঠার আগে কেন এলজিইডির কর্মকর্তাদের চোখে তা ধরা পড়ল না—এসব প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর মিলছে না।

এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—শুধু নিম্নমানের ইট সরিয়ে ফেললেই ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পার পেতে পারেন না। পুরো সড়কের নির্মাণমান কোনো স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি তদারকির ঘাটতি ও অনিয়মের পেছনে কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts