নিজস্ব প্রতিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে যখন দেশজুড়ে ত্রাহি অবস্থা, ঠিক তখনই প্রকৃতির আশীর্বাদে দীর্ঘ সময় পর লোডশেডিংমুক্ত এক দিন পার করল বাংলাদেশ। গত কয়েক দিনের টানা ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসায় গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের কোথাও লোডশেডিং হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক বার্তায় বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, আবহাওয়া শীতল হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং দেশবাসী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উপভোগ করেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা গত ২৩ এপ্রিল জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সঠিক সময়ে দেশে পৌঁছাতে পারছে না। এর ফলে শহর ও গ্রামে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছিল:
- আশার আলো: গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। মঙ্গলবারের পরিসংখ্যান সেই আশ্বাসেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- বৈষম্য নিরসন: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছিলেন, গ্রাম ও শহরের লোডশেডিংয়ের বৈষম্য কমাতে প্রয়োজনে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করা হতে পারে।
একদিনের জন্য দেশ লোডশেডিংমুক্ত থাকাকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই স্বস্তি মূলত আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
“ঝড়-বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে চাহিদা কমলেও গরম বাড়লে বা জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।” – বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা
আপাতত প্রকৃতির কল্যাণে লোডশেডিং থেকে মুক্তি মেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেও বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান ও সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আরো দেখুন: https://banglaralo24tv.com/










